Header Ads

কি খাবারের মাধ্যমে গরু মোটাতাজাকরণ

 গরু মোটাতাজাকরণ  

আমাদের দেশের প্রায় ৭০ ভাগ গ্রামীণ পরিবারই প্রাণি প্রতিপালনের সঙ্গে জড়িত থাকলেও গরু মোটাতাজাকরণ কলা কৌশল বা প্রযুক্তি ব্যবহারকারী পরিবারের সংখ্যা খুবই কম। তবে গরু মোটাতাজাকরণ প্রকল্পের গুরুত্ব না জানলেও অনেক পরিবার একটি বা দুটি বাড়ন্ত এড়ে গরু ক্রয় করে প্রযুক্তি ব্যতিরেকে সাধারণভাবে লালন পালন করে যখন স্বাস্থ্য ভাল হয় তখন বিক্রয় করে দেয়। সাধারণত বেশি বিক্রয়মূল্য পাওয়ার আশায় অধিকাংশ লোকই কোরবানীর সময় তাদের পালনকৃত গরু বিক্রয় করেন। বিষয়টি সর্ম্পকে স্পষ্ট ধারণা, ব্যাপক প্রচার ও প্রশিক্ষণের অভাবে প্রযুক্তিটি ব্যপকভাবে পরিচিতি পায়নি। তথাপি সরকারী, আধাসরকারী ও এনজিও প্রতিষ্ঠানসমূহ প্রোটিনের চাহিদা মেটানো, কর্মস্থান, দারিদ্র বিমোচন ও বেকার যুবকদের আয় বৃদ্ধির লক্ষ্যে গরু মোটাতাজাকরণের উপর বিভিন্ন প্রশিক্ষণ, আর্থিক অনুদান, সহজ উপায়ে লোন ইত্যাদি দিয়ে সহযোগিতা করছে। আশা করা যায় ভূমিহীন নর-নারী ও বেকার যুবকদের আয় ও কর্মস্থানের ক্ষেত্রে এ প্রযুক্তি ব্যাপক ভূমিকা রাখবে। গরু মোটাতাজাকরণ বা বীফ ফ্যাটেনিং (ইববভ ঋধঃঃবহরহম) বলতে কিছু সংখ্যক গরু বা বাড়ন্ত বাছুরকে একটি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে বিশেষ ব্যবস্থাপনায় এবং উন্নত সুষম খাবার সরবরাহ করে ঐ গরুর শরীরে অধিকপরিমাণ মাংস/চর্বি বৃদ্ধি করে বাজারজাত করাকেই বুঝায়। 



গরু মোটাতাজাকরণের উদ্দেশ্য

১. দেশে আমিষের চাহিদা পূরণ

২. বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের জন্য চামড়া শিল্পের সমৃদ্ধি

৩. জাতীয় আয় বৃদ্ধি করা ও বেকার সমস্যার আংশিক সমাধান করা

৪. জৈব সার সহজলভ্য করা

৫. পরিবেশ দূষণমুক্ত ও গবাদিপ্রাণিজাত শিল্প গড়ে তুলতে পারে।

৬.বায়োগ্যাস প−ান্ট স্থাপনের মাধ্যমে গোবর থেকে গ্যাস আহরণ করে ব্যবহার করা যেতে পারে।

৭.কর্মসূচীর স¤প্রসারণের মাধ্যমে অধিক জনগণকে এ কাজে উৎসাহিত করে তাদের আর্থ-সামাজিক অবস্থার উন্নয়নে সহায়তা করা যেতে পারে।

গরু মোটাতাজাকরণের সুবিধা 

১। কম মূলধণ ও কম জায়গার প্রয়োজন হয়।

২। অল্প সময়ের (৪-৬ মাসের) মধ্যে গরু মোটাতাজা করে অধিক মূল্যে বাজারে বিক্রয় করা যায় অর্থাৎ

আর্থিক মুনাফা অর্জন করা যায়।

৩। খুব সল্প সময়ের মধ্যে লাভসহ মুনাফা ফেরত পাওয়া যায়।

৪। বেকার এবং মহিলাদের কর্মসংস্থানে সুযোগ বেশি।

৫। বসতভিটা আছে এমন সকল পরিবার স্বল্প বিনিয়োগকরে এ প্রকল্পের আওতায় আসার ব্যাপক সুযোগ লাভ করতে পারে।

৬। বাজারের মাংসের চাহিদা সব সময় বেশি থাকার কারণে বাজার দর নিæগতির সম্ভাবনা কম ও লোকসানের ঝুঁকি কম থাকে।

৭। বাড়ন্ত গরুর রোগ-ব্যাধির প্রকোপ খুব কম থাকে, ফলে আর্থিক ক্ষতির সম্ভবনা খুব কম।

৮। স্থানীয় বাজার-হাট থেকে অনায়াসে প্রাণি ক্রয় করে প্রকল্প শুরু করা যায়।

৯। স্থানীয় ভাবে খাদ্যের সাথে বাড়ীর উচ্ছিষ্ঠ খাদ্যের সদ্ব্যাবহার হয়। 


ব্যাক্তিগত প্রশিক্ষণ ও অভিজ্ঞতা

১। গরু মোটাতাজাকরণ বিষয়ে নিজস্ব চিন্তাভাবনা।

২। খামার স্থাপন বিষয়ে আগ্রহ ও আন্তরিকতা।

৩। প্রযুক্তিগত প্রশিক্ষণ ও অভিজ্ঞতা।

৪। খামার পরিচালনা বিষয়ে নিজস্ব দক্ষতা।

৫।  সম্পদের প্রাপ্যতা।

৬। খামার স্থাপনের জন্য নিজস্ব জমি।

৭। নিজস্ব মূলধন অথবা মূলধন প্রাপ্তির উৎস।

৮। খামার পরিচালনার জন্য সময় প্রদান।

৯। ব্যবস্থাপনা/পরিচালনার জন্য বিশ্বস্ত ও দক্ষ কর্মী।

উপকরণ প্রাপ্তির নিশ্চয়তা

১। গরু প্রাপ্তির উৎস

২। খামারের জন্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম

৩।  খাদ্য সামগ্রীর উৎস ও প্রাপ্যতা।

বাজারের নিশ্চয়তা

১। উৎপাদিত গরুর জন্য স্থানীয় বাজার

২। মাংসের স্থানীয় চাহিদা অথবা বিপননের বিকল্প ব্যবস্থা

৩। স্থানীয় জনসাধারণের মধ্যে গরুর মাংস ক্রয়ের পরিমাণ

৪। মাংসের বিক্রয় মূল্য।


 সুযোগ সুবিধা

১।  খামার স্থাপনের জন্য পরিবেশ

২। আবর্জনা ও বর্জ্য অপসারণ সুবিধা

৩। সেনিটেশন সুবিধা

৪। বৃহদাকার খামার হলে খামারে নিয়োজিত ব্যক্তিদের আবাসিক সুবিধা ও যানবাহন।

স্থান

১। ছোট খামার হলে বসত বাড়ীর নিকট, অন্যথায় অন্যান্য খামার থেকে যথা সম্ভব দূরে

২। লোকালয় থেকে সম্ভাব্য দূরে

৩। ভাল যোগাযোগ ব্যবস্থা

৪।  বৈদ্যুতিক সুবিধা

৫। উঁচু স্থান যেখানে জলাবদ্ধতা সৃষ্টির সম্ভাবনা নেই 

 প্রকল্প প্রণয়ন

১। খামার স্থাপনের জন্য স্থানীয় প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ও প্রয়োজনে ঋণদান সংস্থার সাথে যোগাযোগ করে প্রকল্প করতে হবে।

২।  খামার স্থাপনের জন্য একটি নকশা প্রস্তুত করার প্রয়োজন হবে।

৩। নকশার মধ্যে বিভিন্ন প্রকার ঘরের অবস্থান, চারণভূমি, ঘাস উৎপাদনের জমি এবং ভবিষ্যত সু প্রসারণ সুবিধা দেখাতে হবে।

৪। পরিবেশ দূষণ সম্ভবনা থাকলে কিভাবে নিবারণ করা যাবে, প্রকল্পের মধ্যে তার কথা উলে−খ থাকতে হবে। 

খামার প্রকল্প গ্রহণ পূর্ব বিবেচনা

মূলধনঃ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করতে কত টাকা লাগবে এবং এর কি উৎস হতে পারে, তা পূর্বেই ঠিক করতে হবে। কারণ মূলধন পুরোপুরি সংগ্রহ না করে কাজ শুরু করলে প্রকল্প ক্ষতিগ্রস্থ হবার সম্ভাবনা থাকে।

গরু বিক্রয়ের হাটঃ সাধারণত হাট-বাজার থাকলেই মোটাতাজা গরু বিক্রয়ের হাট আছে বুঝায় না। এলাকায় কতটি স্থানে কতটি গরু প্রতিদিন/প্রতি সপ্তাহে জবাই করা করা হয় তা একটি জরীপের মাধ্যমে জানতে হবে এবং ক্রেতারা কি পরিমাণ গরুর মাংস খায়, সর্বনিæ ও সর্বোচ্চ কত দরে গরুর মাংস বিক্রয় হয় তাও জানতে হবে। গরুটি বিক্রয়ের জন্য হাটে যেতে হবে নাকি কসাই এসে নিয়ে যাবে সে সম্পর্কে ধারণা থাকতে হবে।

গবাদিপ্রাণির খাদ্য সামগ্রীর প্রাপ্যতাঃ গবাদিপ্রাণির যে সকল খাদ্য দ্রব্য দরকার তা সম্পর্কে যেমন পরিষ্কার ধারণা থাকতে হবে তেমনি খাদ্য দ্রব্যগুলি কোথায়, কতদূরে এবং কত দরে সংগ্রহ করা যাবে তা জানতে হবে। বছরের সব সময় পাওয়া যাবে কিনা এবং একবারে কিনে রাখার মত পরিমাণ পাওয়া যাবে কিনা তা জানতে হবে।

কর্মী ও কর্মী ব্যবস্থাপনাঃ প্রকল্প সঠিক বাস্তবায়নের জন্য দুই বা দুই এর অধিক ব্যক্তির সমন্বয়ে একটি কর্মীব্যবস্থাপনা গড়ে তুলতে হবে। প্রত্যেক ব্যক্তির কাজের সাথে অপরের সমন্বয় থাকা জরুরি। কর্মীদের হতে হবে- সৎ, নিবেদিত, দায়িত্ববান, বুদ্ধিমান, সহানুভূতিশীল, পূর্বে এ কাজ বা অনুরূপ কাজের অভিজ্ঞতা সম্পন্ন।


No comments

Please validate the capture

Powered by Blogger.