Header Ads

বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে গবাদি প্রাণির ভূমিকা

 অর্থনৈতিকে গবাদি প্রানি 

বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে গবাদি প্রাণির ভূমিকা অপরিসীম। এখানে কৃষকেরা শস্য চাষের পাশাপাশি প্রাণিপাখি লালন-পালন করে থাকে। হালচাষ, ফসল মাড়াই, মানব ও পণ্য পরিবহন, জৈব সার উৎপাদন এবং জ্বালানি সরবরাহে প্রাণিসম্পদের রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ অবদান। জনগণের আমিষের চাহিদা পূরণে গবাদি প্রাণির দুধ ও মাংস উৎপাদনের মাধ্যমে যথেষ্ট অবদান রেখে চলেছে। ভূমি ও পুজি স্বল্পতার কারণে প্রাণিসম্পদ দারিদ্র্য বিমোচন ও কর্মসংস্থানের একটি গুরুত্বপূর্ণ অবলম্বন। প্রাণিসম্পদ দেশের রপ্তানি বাণিজ্যেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বিশেষ করে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য রপ্তানির মাধ্যমে দেশ প্রতি বছর গড়ে প্রায় ১২০০ কোটি আয় করছে। চামড়ার গুণগত মান ও পরিমাণ বৃদ্ধির মাধ্যমে দেশের রপ্তানি আয় বহুগুণ বৃদ্ধি করা সম্ভব। এছাড়া দেশে দুধ উৎপাদন বৃদ্ধি করে গুড়াঁ দুধের আমদানি কমানোর মাধ্যমে কষ্টার্জিত বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় করা সম্ভব। দেশের রপ্তানি বহুমুখীকরণের মাধ্যমে রপ্তানি আয় বৃদ্ধিতে প্রাণিসম্পদ খাতের রয়েছে অপরিসীম সম্ভাবনা। প্রাণিজাত বিভিন্ন পণ্য যেমন মাংস, হাড়, চর্বিসহ অন্যান্য পণ্য রপ্তানির যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে। রপ্তানি বৃদ্ধির মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের পাশাপাশি মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি ও জীবন যাত্রার মান উন্নয়ন সম্ভব । গবাদি প্রাণি পালন শুধু স্বতন্ত্রভাবে দুধ ও মাংস উৎপাদনের জন্য লাভজনক ব্যবসাই নয় বরং আত্মকর্মসংস্থান দারিদ্র্য বিমোচন এবং জাতীয় শ্রম ক্ষমতা উন্নয়নের অন্যতম সহজতর মাধ্যম হিসেবে বিবেচিত। তাছাড়া বৈদেশিক মুদ্রা আয়, জ্বালানি ও সার, পরিবেশ সুরক্ষা, নারীর ক্ষমতায়ন ও বিভিন্ন ধরনের সহযোগী শিল্প উৎপাদনে গবাদি প্রাণির অবদান গুরুত্বপূর্ণ। বিগত কয়েক বছরে ধারাবাহিকতাভাবে গবাদি প্রাণির সংখ্যা বৃদ্ধি পাশাপাশি দুধ ও মাংসের উৎপাদনও বৃদ্ধি পেয়েছে যা জনগণের আমিষের চাহিদা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। 




কৃষি ও গবাদি প্রাণির গুরুত্বঃ বাংলাদেশের বেশির ভাগ কৃষকই গরীব এবং ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র খন্ডিত জমির মালিক। এ ধরনের জমিতে যন্ত্রচালিত ট্রাক্টরের পরিবর্তে প্রাণিচালিত লাঙ্গল দিয়ে জমি চাষ করা হয়। জমিতে বীজ, সার, যন্ত্রপাতি আনা-নেয়ার জন্য এবং ফসলের মাঠ থেকে ফসল বাড়িতে ও বাজারে নিয়ে যাওয়ার জন্য গ্রামেগঞ্জে এখনও প্রাণিচালিত গাড়ি ব্যবহৃত হচ্ছে। বিশেষ করে যে সমস্ত এলাকায় পাকা রাস্তা নেই সে সমস্ত গবাদি পশু এলাকায় গ্রামীণ পরিবহন হিসেবে গরু গাড়ি ও মহিষের গাড়ির প্রচলন আছে। শস্য নিড়ানী বা আগাছা দূরীকরণের জন্যও গবাদি প্রাণিকে ব্যবহার করা হয়। ধান, গম, কলাই ইত্যাদি ফসল মাড়াই এর জন্য গবাদি প্রাণি ব্যবহৃত হয়। আখ মাড়াই কল থেকে আখের রস বের করার জন্য এবং তৈল বীজ ও নারিকেল থেকে তেল উৎপাদনের জন্য ঘানি টানার কাজে গবাদি প্রাণিকে ব্যবহার করা হয়। এছাড়াও ইটভাটায় ইট তৈরির উপযোগী কাদা তৈরির জন্য গবাদি প্রাণি ব্যবহৃত হয়। বাংলাদেশের কৃষি জমিতে বৈজ্ঞানিক মাত্রা ও অনুপাতে রাসায়নিক সার ব্যবহার না করার ফলে কৃষি জমির উর্বরতা হ্রাস পাচ্ছে। এ সমস্ত জমির উর্বরতা ফিরে পাওয়ার জন্য গোবর সার বা জৈব সারের প্রয়োজন অত্যন্ত বেশি। এ সার যেমন মাটির সার্বিক অবস্থার উন্নয়ন ঘটায় তেমনি ফসলের উৎপাদনও বাড়িয়ে দেয়। এছাড়াও গবাদি প্রাণির খাদ্যের উচ্ছিষ্টের সাথে আগাছা, কচুরিপানা ও মল-মূত্র মিশ্রিত গোয়াল ঘরের আবর্জনা একত্রে মিশ্রিত করে কম্পোস্ট সার তৈরি করা যায়। আবার গোবর দিয়ে বায়োগ্যাস তৈরির পর উচ্ছিষ্টাংশ সার হিসেবেও ব্যবহৃত হয়, যা একদিকে পরিবেশ সুরক্ষায় ভূমিকা রাখে অন্য দিকে জৈব সারের ঘাটতি পূরণেও সহায়তা করে।

খাদ্য ও পুষ্টি চাহিদায় গবাদি প্রাণির ভূমিকাঃ শরীরের ক্ষয়পূরণ, বৃদ্ধি সাধন ও শরীর গঠনের জন্য আমিষ জাতীয় খাদ্যের প্রয়োজন। দুধ ও মাংস আমিষ জাতীয় খাদ্য যা আমরা গবাদি প্রাণি থেকে পেয়ে থাকি। মানুষ বা প্রাণির দেহের সঠিক বৃদ্ধির জন্য যেসব অতি প্রয়োজনীয় অ্যামাইনো অ্যাসিড দরকার তার সবগুলোসহ দুধের আমিষে অন্যান্য অ্যামাইনো অ্যাসিডও পাওয়া যায়। উদ্ভিদ আমিষে লাইসিন, মিথিওনিন ও সিসটিনের অভাব রয়েছে বিধায় বাচ্চাদের সুষ্টুভাবে বৃদ্ধির জন্য নিয়মিত দুধ পান করানো উচিত। একইভাবে দুধের চর্বিতে অতি প্রয়োজনীয় ফ্যাটি অ্যাসিডসহ সব ধরনের ফ্যাটি অ্যাসিড গুলো পাওয়া যায়। আমাদের দেশে দুধের জন্য গরু ও মহিষ প্রসিদ্ধ। তবে ছাগল থেকেও দুধ দোহন করা হয়। বাংলাদেশে দুধ ও দুধজাত দ্রব্য খুবই জনপ্রিয়। সরাসরি তরল দুধ বিক্রি করে বহু লোক জীবিকা নির্বাহ করে। তাছাড়া বিভিন্ন ধরনের দুগ্ধজাত পণ্য যেমন দই, মিষ্টি, ঘি, মাখন, পনির, কেক, বিস্কুট ইত্যাদি সুস্বাদু খাবার তৈরি করেও অনেকে জীবিকা নির্বাহ করে। চকোলেট ও শুষ্ক মিষ্টি তৈরি করে বিদেশে রপ্তানির মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা যায়। এছাড়া পারিবারিক পর্যায়ে ক্ষির, পায়েস, ফিরনি ও বিভিন্ন ধরনের পিঠা তৈরি করে পারিবারিক প্রয়োজন, আতিথেয়তা ও বিভিন্ন অনুষ্ঠানে তাৎক্ষণিক প্রয়োজন মেটাতে এসব দুগ্ধজাত দ্রব্য এখনও সমাদৃত। আদিকাল থেকেই প্রাণির মাংস মানুষের খাদ্য হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। মাংসের স্বাদ ও পুষ্টিমানের জন্য এখনও এ খাদ্যটি জনপ্রিয়। মাংস একটি উৎকৃষ্ট মানের আমিষ জাতীয় খাদ্য যা দেহের ক্ষয়পূরণ, বৃদ্ধিসাধন ও দেহ গঠনে সহায়তা করে। মাংস দিয়ে নানা ধরনের মজাদার খাদ্য যেমন বার্গার, চপ, কাবাব, কাটলেট,রোস্ট ইত্যাদি তৈরি করা হয়। আমাদের দেশে গরু ও খাসির মাংস খুবই জনপ্রিয়। ব্র্যাক বেঙ্গল ছাগলের মাংস অতি উন্নত মানের। সারা বিশ্বে যার বিশেষ কদর রয়েছে। মাংস ছাড়াও প্রাণির ফুসফুস, মগজ নাড়িভুঁড়ি খাদ্য হিসাবে ব্যবহৃত হয়। এছাড়াও মানুষের খাওয়ার অযোগ্য অংশ প্রাণি খাদ্য হিসেবে ব্যবহৃত হয়।







No comments

Please validate the capture

Powered by Blogger.