কোয়েল পালন পদ্ধতি
কোয়েল পালন
মুরগির বাচ্চার মত কোয়েলের বাচ্চাকেও কৃত্রিম পদ্ধতিতে ব্রুডিং করা দরকার হয়। কোয়েল পালনের পুরু সময়কালকে দুটো ভাগে ভাগ করা হয়। (১) বাচ্চা পালন পর্ব (২) বয়স্ক কোয়েল পর্ববাচ্চা পালন পর্ব শুন্য থেকে ৩৫ দিন পর্যন্ত বাচ্চা পালন পর্বের অর্ন্তরভুক্ত তবে ১৪ দিন পর্যন্ত ব্রুডিং করতেহয়। পরিবেশের তাপমাত্রার কারনে ব্রুডিং পর্ব ৩ সপ্তাহ বা তারও বেশী সময় হতে পারে। একদিন বয়সেরবাচ্চার জন্মের পর থেকে কৃত্রিম ভাবে তাপের মাধ্যমে পালন করাকে ব্রুডিং বলা হয়।
কোয়েলের বাচ্চা পালনঃ কোয়েলের বাচ্চা ব্যাটারি বা লিটার যে কোন প্রাণিতিতেই পালন করা যায়। তবে যে পদ্ধতিতেই পালন করা হোক না কেন এদের খাঁচা যে ঘরে রাখা হবে বা লিটার পদ্ধতিতে যে ঘরে পালন করা হবে সেটি যথেষ্ট মজবুত হওয়া বাঞ্ছনীয় । ঘরটি এমন ভাবে তৈরি করতে হবে যেন তাতে পর্যাপ্ত আলো বাতাস প্রবেশ করতে পারে ; বৃষ্টি বাদলে যেন পানি প্রবেশ না করে ; ইদুঁর বা অন্যান্য প্রাণি-পাখি যেন উৎপাত না করে । তাছাড়া ঘরটি বয়স্ক কোয়েল বা হাঁস-মুরগির ঘর থেকে কিছুটা দূরে হওয়া বাঞ্ছনীয় । ঘরটিকে সব সময় পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন ও জীবাণুমুক্ত রাখতে হবে। । কোয়েলের বাচ্চার ব্রুডিং ও রিয়ারিং এর জন্য আলাদা ঘর ব্যবহার করা উচিত তবে তা সম্ভব না হলে একই ঘরে বেড়া বা পার্টিশন দিয়ে পালন করা যেতে পারে। তবে কখনোই একই খাঁচায় বা একসঙ্গে লিটারের বিভিন্ন বয়সের কোয়েল পালন করা উচিত নয়।
নিম্নলিখিত বিষয়গুলো মেনে চলব
১. সঠিক তাপমাত্রা
২. পর্যাপ্ত আলো
৩. বায়ু চলাচল ব্যবস্থা
৪. বাচ্চার ঘন্তব
৫. খাদ্য ও পানি ব্যবস্থাপনা
৬. স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ।
সঠিক তাপমাত্রাঃ বাচ্চাদের জীবন ধারণ ও সঠিক বৃদ্ধির জন্য উপযুক্ত পরিবেশ সৃষ্টিতে তাপমাত্রা গুরুত্বপূর্ন ভুমিকা রয়েছে। পরিবেশের তাপমাত্রার সঙ্গে মিল রেখে শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতা জন্মের প্রথম দিকে এদের খুবই কম থাকে। তাছাড়া এদের দেহের কোমল পালকের আচ্ছাদনও পর্যাপ্ত তাপ নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না। ফলে তাপের অভাবে শরীর ঠান্ডা হয়ে যায়। এতে অনেক বাচ্চাই মারা যায়। যেগুলো বেঁচে থাকেব তাদের বৃদ্দির সঠিক হয় না। তাই বাচ্চা পালন ঘরে সঠিকভাবে তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করতে হয়। বাচ্চা পালন ঘরের তাপমাত্রা ২১ডিগ্রী -২২ সেলসিয়াস এ রাখতে হয়। ব্রডারের বাচ্চাদের তাপ দেয়ওয়ার বিশেষ ধরনের যন্ত্র রাখতে হয়। এরপর প্রতি তিন -চারদিন পরপর ২.৫ -৩.০ সেঃ করে কমিয়ে তিন সপ্তাহ পর তা ঘরের তাপমাত্রায় নামিয়ে আনতে হবে। শীতকাল ছাড়া বাচ্চা পালনের পরবর্তী দুই সপ্তাহ শুধু মাত্র রাতের বেলায় তাপের ব্যবস্থা করলেই চলে।
পর্যাপ্ত আলোঃ বাচ্চাদের বৃদ্ধিতে আলো গুরুত্ব পূর্ন ভূমিকা রয়েছে। বাচ্চাদের জনন গ্রন্থির বৃদ্ধিতে আলোর বর্ণ বেশ প্রভাব ফেলে । যেমন মর্দা বাচ্চাদের শুক্রাশয়ের বৃদ্দিতে লাল বর্ণের আলোর ভূমিকা নীল বর্ণের ত’লনায় বেশি তাছাড়া আলোর সাহায্যেই এরা নিজেদেরকে ব্রডার হাউজের / কেইজের পরিবেশের সঙ্গে খাপ খাওয়াতে শেখে এবং খাদ্য ও পানি পান করার প্রতি মনোযোগি হয়। দু সপ্তাহ বয়স পর্যন্ত বাচ্চাদের ঘরে ২৪ ঘন্টা আলোর ব্যবস্থা করতে হবে। তৃতীয় সপ্তাহের শেষে তা কমিয়ে দৈনিক ১২ ঘন্টায়ই সীমাব্ধ রাখতে হবে। তবে তাড়াতাড়ি যৌন পরিপক্ক আনতে হবে প্রথম দিন থেকে ৫ -৬ সপ্তাহ বয়স পর্যন্ত দৈনিক ২৪ ঘন্টা আলো জ্বেলে রাখতে হবে। ব্রয়লার ক্ষেত্রে তাড়াতাড়ি ওজন বাড়ানোর জন্য ২৫ -২৮ দনি থেকে ৩৫ দিন পর্যন্ত বাজারজাত করার ৭-১০ দিন পূর্ব থেকে দৈনিক ৮ঘন্টা আলোতে ও ১৬ ঘন্টা অন্ধকারে রাখতে হবে।
বায়ু চলাচল ব্যবস্থাঃ বাচ্চা পালন ঘে পযাপ্ত বাযূ চলাচল ব্যবস্থা রাখতে হবে। এর মাধ্যমে গরমের দিনে ঘরের মধ্যে সৃষ্ট তাপ সহজেই বেরিয়ে যেতে পারবে। এছাড়া ঘরে পর্যাপ্ত বিশুদ্ধ বাযূ ঢোকা ও ঘরে সৃষ্ট ক্ষতিকারক ঘ্যাস বের হয়ে যাওয়ার জন্য সঠিক বাযূ চলাচল ব্যবস্থা থাকা প্রয়োজন। ব্রুডিংয়ের প্রথম সপ্তাহে ঘরে বায়ু চলাচল ব্যবস্থা সর্বনিম্ন পর্যায়ে রাখতে হবে এবং ধীরে ধীরে তা বড়াতে হবে। ঘরের আপেক্ষিক আর্দ্রতা প্রথম তিন সপ্তহ ৬০-৬৫% পরবর্তী দু’সপ্তহ ৫৫-৬০% এ রাখতে হবে।
বাচ্চার ঘনত্বঃ ঘরের ভিতরে বা ব্রুডারের নিদিষ্ট জায়গার ভিতরে মোট বাচ্চার ঘনত্বের ওপর এদের সঠিক বৃদ্ধি নির্ভর করে। তিন সপ্তাহ বয়স পর্যন্ত প্রতিটি বাচচার জন্য ব্রুডারের হোভারের নিচে ৭৫ বর্গ সেঃ মিঃ জায়গা বরাদ্ধ করতে হবে। রান এর ব্রুডারের হোভারে চারদিক থেকে চিক গার্ড পর্যন্ত ফাঁকা জাযগাটুকু একই পরিমান জায়গা থাকবে। ৩-৫ সপ্তাহ পর্যান্ত ১৫০ -১৭৫ বর্গসেঃমিঃ জায়গার প্রয়োজন হবে। লিটার পদ্ধতিতে প্রতিটি বাচ্চার জন্য সর্বমোট ২০০-২৫০ বর্গসেঃমিঃ জায়গা দিতে হবে।
খাদ্য ও পানির ব্যবস্থাপনাঃ বাচ্চাদের জীবনের প্রথম দিকে খাদ্য ও পানির সহজ প্রাপ্যতা আরামপ্রদ পরিবেশ তৈরিতে গুরুত্বর্পূর্ন ভূমিকা পালন করে। যদি কোন বাচ্চা তার ধারে কাছে খাদ্য ও পানি খুঁজে না পায় , তবে তার শরীর পর্যাপ্ত শক্তির অভাবে ঠন্ডা হয়ে যাবে ও না খেতে পেয়ে ধীরে ধীরে দুর্বল হয়ে মারা যাবে। জন্মের প্রথম সপ্তাহে বাচ্চা মৃত্যুর একটি অন্যতম প্রধান কারণ হলো পানির অভাব। যেহেতু ব্রডিংয়ের উচচ্ তাপমাত্রায় বাচ্চারা সহজেই পানিশূন্যতায় ভোগে তাই এদের জন্য পর্যাপ্ত পানির ব্যবস্থা করতে হবে।
স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশঃ বাচ্চদের সঠিক বৃদ্ধির জন্য ঘর ও ব্র“ডারের পরিবেশ স্বাস্থ্যসম্মত হওয়া বাঞ্ছনীয় । ঘরের ভিতর কোনো ময়লা আর্বজনা থাকা চলবে না। লিটার ভেজা থাকা চলবে না । বাচ্চা পালন ঘরে পালনকারি ছাড়া অন্যদের প্রবেশাধিকার নিষিদ্ধ করতে হবে। তাছাড়া অন্যান্য প্রাণিপাখিও যেন ঘরের আশেপাশে না আসতে পারে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। কোনো বাচ্চা নখ,পা,পালক, ঠোঁট প্রভৃতিতে ময়লা জমলে তা আলতোভাবে পরিষ্কার করতে হবে। ময়লার চোখ বন্ধ হয়ে গেলে একটুকরা তুলো পানিতে ভিজিয়ে ময়লা পরিষ্কার করা উচিত।

No comments
Please validate the capture