কোয়েল পালনের গুরুত্ব ও জাত পরিচিতি
কোয়েল পালনের গুরুত্ব ও জাত পরিচিতি
আমাদের দেশে পোষা পাখির মধ্যে কোয়েল একটি নতুন সংযোজন। বাংলাদেশের আবহাওয়া কোয়েল পালনের জন্য খুবই উপযোগি। কোয়েলের মাংস এবং ডিম সুস্বাদু ও পুষ্টিকর । পুষ্টির ঘাটতি মেটাতে কোয়েল পালন অনেক মূল্যবান ভূমিকা রাখতে পারে। হাঁস-মুরগির মত কোয়েল পালন করে অনেকেই লাভবান হয়েছেন। অনেকে আত্মকর্ম সংস্থানের জন্য কোয়েল পালন পেশা হিসেবে বেছে নিয়েছেন । বর্তমানে ঢাকা সহ বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে কোয়েল পালন খামার গড়ে উঠেছে। ইতিমধ্যেই কোয়েল পালন যথেষ্ট্য জনপ্রিয়তা লাভ করেছে এবং পোল্ট্রি শিল্পের একটি মজবুত অংগ হিসেবে নিজের স্থান করে নিয়েছে। বাণিজ্যিক জাপানী কোয়েলের অনেক গুলি জাত ও উপজাত রয়েছে। জাত ও উপজাত ভেদে কোয়েলের গায়ের রং ওজন, আকার, আকৃতি, ডিমপাড়ার হার, ডিমের ওজন ইত্যাদির অনেক পার্থক্য রয়েছে। বর্তমানে পৃথিবীতে উদ্দেশ্য ও অবস্থান অনুযায়ী তিন ধরনের কোয়েল রয়েছে।
কয়েল পাখির জাত
১। বন্য কোয়েল
.২। বানিজ্যিক কোয়েল
৩। ল্যাবরেটরী কোয়েল
বাণিজ্যিক কোয়েল
১। লেয়ার কোয়েল
২। ব্রয়লার কোয়েল
৩। ব্রিডার কোয়েল
লেয়ার কোয়েলঃ ডিম উৎপাদনের উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত কােয়েলকে লেয়ার কোয়েল বলা হয় । লেয়ার কোয়েল শুধু খাবার ডিম উৎপাদনের জন্য পালন করা হয় । লেয়ার কোয়েলের সাথে তাই কোন মাদী কোয়েল রাখা হয়না । সাধারণত ৬-৭ সপ্তাহ বয়স থেকে মাদী কোয়েল ডিম পাড়া শুরু করে এবং প্রতিটি কোয়েল বছরে ২৯০ - ৩০০টি ডিম পেড়ে থাকে। লেয়ার খামারে সাধারনত ৫৪ সপ্তাহব্যাপী মাদী কোয়েল পালন করা হয় । এরপর এগুলোকে ডিম উৎপাদনের জন্য বাতিল করে দেয়া হয় এবং মাংসের জন্য বিক্রয় করা হয়।
ব্রয়লার কোয়েলঃ নরম ও সুস্বাদু মাংস উৎপাদনের জন্য ব্যবহৃত জাপানি কোয়েলকে ‘ব্রয়লার কোয়েল’ বলা হয়। এ উদ্দেশ্যে মর্দা-মাদী নির্বেশেষে জন্মের দিন থেকে পাঁচ সপ্তাহ বয়স পর্যন্ত এদেরকে পালন করা হয়। এ সময়ের মধ্যে একেকটির জীবিত ওজন ১৪০ -১৫০ গ্রাম হয়ে যায়। এগুলো থেকে প্রায় ৭২.৫% খাওয়ার উপযোগী মাংস পাওয়া যায়। মাংস উৎপাদনের জন্য পৃথিবীতে যতো ধরনের কোয়েল তৈরি করা হয়েছে তার মধ্যে ভারতের তামিলনাড়– প্রদেশের কোইমবাটোরস্থ এ.ভি.এম. হ্যাচারিজ এন্ড ব্রিডিং রিসার্চ সেন্টার (প্রাঃ) লিমিটেড কর্তৃক উৎপন্ন সাদা কোয়েলই উৎকৃষ্টতম । অবশ্য এটি এখনও আমাদের দেশে আনা হয়নি। তাই আপাতত লেয়ার কোয়েলগুলোই ব্রয়লার হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। এদের মাংস উৎপদন হারও যথেষ্ট ভাল।
ব্রিডার কোয়েলঃ লেয়ার ও ব্রয়লার কোয়েলের বাচ্চা ফোটানোর লক্ষ্যে ডিম উৎপাদনের জন্য ব্যবহৃত বাছাই করা প্রজননে সক্ষম মর্দা-মাদী কোয়েলগুলোকে ব্রিডার কোয়েল বলা হয়। সাধারণত ৭-৮ সপ্তাহ বয়সের মাদী এবং ১০সপ্তাহ বয়সের মর্দা কোয়েরকে ব্রিডিং খামারে এনে পালন করা হয়। তবে এদের বয়স ১০ সপ্তাহ হওয়ার পর প্রজননের কাজে ব্যবহার করা উত্তম।এখানে এদেরকে ৩০ সপ্তাহ বয়স পর্যন্ত রাখা হয়। ডিমের উর্বরতা ভাল রাখার জন্য সর্বোচ্চ পর্যায়ে ২টি মাদী কোয়েলের সংগে একটি মর্দা কোয়েল রাখতে হয়।

No comments
Please validate the capture