বাংলাদেশের আবহাওয়া উপযোগী গবাদি
বাংলাদেশের আবহাওয়া গবাদি
ভারত ও পাকিস্তানের গরু বাংলাদেশের আবহাওয়ায় পালনের উপযোগী। বর্তমানে আমাদের দেশের বিভিন্ন দুগ্ধ খামারে শাহীওয়াল, সিন্ধি, হলস্টেইন ফ্রিজিয়ান এবং সংকর জাতের গরু পালন করে। বাংলাদেশের শাহজাতপুর, পাবনা, মুন্সি, মাদারিপুর এবং চট্টগ্রাম এলাকায় উন্নতমানের গবাদি প্রাণি রয়েছে। এ এলাকাগুলোতে অধিক পরিমাণে দুধ উৎপন্ন হয়। এ সমস্ত গবাদি প্রাণি দেশের সাধারণ প্রাণি অপেক্ষা উন্নত। বাংলাদেশী নয় কিন্তু আমাদের দেশের আবহাওয়া উপযোগী কয়টি উন্নত জাতের প্রাণির বর্ণনা নিচে দেয়া হল ।
১। শাহীওয়াল
২। লালসিন্ধি
৩। হরিয়ানা
৪। থারপারকার
শাহীওয়াল উৎপত্তিস্থলঃ শাহীওয়ালের এর অপর নাম মন্তগোরামী। পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশের মন্তগোরামী জেলায় এর আদি বাসস্থান। বাংলাদেশ সহ ভারত উপমহাদেশের সেরা দুধ উৎপাদনকারী গাভী শাহীওয়াল।
বৈশিষ্ট্যঃ এরা সাধারণত হালকা লাল রং এর হয়ে থাকে। এদের শরীর খুব মোটা-সোটা, পা খাটো, কপাল চওড়া, শিং বেটে ও মোটা, গলকম্বল বড় ও ঝুলানো, ষাঁড়ের কুঁজ উঁচু ও মোটা এবং লেজ খুব লম্বা প্রায় মাটি স্পর্শ করে। একটা পূর্ণ বয়স্ক গাভীর ওজন প্রায় ৪৫০-৫৫০ কেজি এবং ষাঁড়ের ওজন প্রায় ৬০০- ১০০০কেজি। গাভীর ওলান খুব বড় এবং প্রায়ই ঝুলন্ত থাকে। জন্মকালে বাছুরের ওজন২২-২৮ কেজি।
উপকারিতাঃ এ জাতটা আমাদের দেশে দুধ উৎপাদনের ক্ষেত্রে সেরা হিসাবে বিবেচিত। দুধ উৎপাদন ক্ষমতা বছরে ৩০০০-৪০০০ লিটার। দুধে চর্বির পরিমাণ গড়ে ৪.৫%। এক কালীন ২৮০ দিন দুগ্ধবতী থাকে। বলদ ও ষাঁড় ষাধারণতঃ ধীর ও অলস প্রকৃতির।
লালসিন্ধি উৎপত্তিস্থলঃ পাকিস্তান সিন্ধু প্রদেশের করাচী ও হায়দারাবাদে অঞ্চলে এ জাতের আদি বাসস্থান।
বৈশিষ্ট্যঃ এদের আকার মাঝারি ধরনের, রং টকটকে লাল, কোন কোন সময় কালচে লালও হয়। এদের শিং, গল-কম্বল ও কূঁজ বড়। একটা গাভী প্রায় ৩৫০-৪০০ কেজি ও ষাঁড় প্রায় ৪২৫-৫০০ কেজি ওজনের হয়। জন্মকালে বাছুরের ওজন ২১-২৪ কেজি।
উপকারিতাঃ এদের উৎপাদন বছরে গড়ে প্রায় ২০০০ কেজি। দুধে চর্বির পরিমাণ গড়ে ৫%। বলদ বা ষাঁড় দ্বারা গাড়ীটানা ও হালচাষ ভালভাবে করা যায়। আকারে মাঝারি বলেএ জাতকে অনেকেই বেশ পছন্দ করে থাকে।
হরিয়ানা উৎপত্তিস্থলঃ ভারতের পূর্ব পাঞ্জাব এর আদি বাসস্থান। বর্তমানে সারা ভারতে এবং পৃথিবীর অনেক দেশে এ জাত বিস্তার লাভ করেছে।
বৈশিষ্ট্যঃ হরিয়ানা দেখলেই মনে হয় অত্যধিক পরিশ্রমী ও শক্তিশালী। এদের দেহ বড়, রং সাদা বা হালকা ধূসর, শিং বড় এবং পা লম্বা, মাথা বেশ লম্বা ও অপেক্ষাকৃত সরু। গাভীর ওজন প্রায় ৪০০-৫০০ কেজি এবং ষাঁড়ের ওজন প্রায় ৬০০-১১০০ কেজি। জন্মকালে বাছুরের ওজন ২২-২৫ কেজি।
উপকারিতাঃ হরিয়ানা দুধ ও পরিশ্রম , দুই কাজের জন্যই প্রসিদ্ধ। বছরে দুধ উৎপাদন ক্ষমতা গড়ে ১৫০০ কেজি। দুধে চর্বির পরিমাণ গড়ে ৫%। এ জাতের গাভী সাধারণতঃ প্রায় ৩০০ দিন দুধ দেয়। তবে এ জাতের দোষ হলো বকনা সাধারণতঃ ৩-৪ বছরের পূর্বে গাভী হয় না।
থারপারকার উৎপত্তিস্থলঃ পাকিস্তানের সিন্ধু প্রদেশের থারপারকার জেলা এদের আদি বাসস্থান।
বৈশিষ্ট্যঃ থারপারকার বেশ শক্তিশালী গরু। এ জাতের গাভী যেমন অধিক পরিমাণে দুধ দেয়, ষাঁড় ও বলদের দৈহিক গড়ন ও তেমন মজবুত। এদের রং সাদা, আকার মধ্যম, শিং ও কুঁজ মধ্যম আকারের এবং গল কম্বল মাঝারি আকারের। এদের একটা গুণ অল্প আহারে টিকতে পারে।
উপকারিতাঃ হারিয়ানার ন্যায় দুই কাজে ব্যবহার হয়। গাভীর দুধ উৎপাদন ক্ষমতা বছওে গড়ে প্রায় ২০০০ কেজি। দুধে চর্বি পরিমাণ গড়ে ৫%।
উৎসঃ
1. গাভী পালন গাইড - এ. টি. এম. ফজলুল কাদের
2. গৃহপালিত প্রাণিপালন - বাংলাদেশ উন্মক্ত বিশ্ববিদ্যালয়
3. বাছুর, গাভী ও ছাগল পালন - বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ড
No comments
Please validate the capture