বিভিন্ন ধরনের ঘাস চাষ পদ্ধতি
বিভিন্ন ধরনের ঘাস চাষ পদ্ধতি
১. নেপিয়ার
২. পারা
৩. গিনি
৪. জার্মান
৫. ভুট্টা
স্থায়ী ঘাসের মধ্যে নেপিয়ার উলে−খযোগ্য। বাংলাদেশের আবহাওয়ায় নেপিয়ার খুব ভাল হয়। কচি অবস্থায় পুষ্টিমান বেশী থাকে। গবাদি প্রাণির জন্য নেপিয়ার অত্যন্ত উপাদেয় ও পুষ্টিকর খাদ্য।
চাষ পদ্ধতিঃ প্রায় সব রকম মাটিতেই হয় তবে উঁচু ও বেলে-দোঁআশ মাটি সবচেয়ে ভাল। ডোবা, জলাভূমি, পানি জমে থাকে এরকম স্থানে ভাল হয় না। জমিতে ৪/৫টি চাষ দিয়ে আগাছা বেছে নিয়ে ঘাসের কান্ড অথবা শিকড়সহ মুথা মাটিতে পুঁততে হয়।
রোপণ প্রণালী ও সময়ঃ সারাবর্ষা মৌসুমেই রোপণ করা যায়। বৈশাখ-জৈষ্ঠ্য মাসে প্রথম বৃষ্টির সময় রোপণ করলে প্রথম বছরেই ৩-৪ বার কাটা যায়। কান্ড লাগানোর সময় খেয়াল রাখতে হবে যেন রোপণকৃত কান্ডে দুইটি গিড়া থাকে। এ ঘাস সারিবদ্ধ ভাবে লাগাতে হয়, এক সারি হতে অন্য সারির দূরত্ব ১.৫ - ২ ফুট ও সারিতে চারা থেকে চারার দূরত্ব ১-১.৫ ফুট। চারার গোড়া মাটি দিয়ে শক্ত করে চাপা দিতে হবে। মাটিতে রস না থাকলে চারা লাগানোর পর পরই পানি সেচের ব্যবস্থা করতে হবে।
সার প্রয়োগ ও পানি সেচঃ বর্ষার সময় সেচের প্রয়োজন নেই। চারা লাগানোর আগে জমি তৈরীর একত্রে ২০০০-২৫০০ কেজি গোবর সার ছিটিয়ে ভাল করে মাটিতে মিশিয়ে দিলে ফলন ভাল হয়। এছাড়া একর প্রতি ৩৫ কেজি ইউরিয়া, ২৬ কেজি টি এস পি ও ২০ কেজি এম পি দেওয়া ভাল। প্রতিবার ঘাস কাটার পর একর প্রতি ২৬ কেজি ইউরিয়া দিলে ফলন ভাল পাওয়া যায়। সার ছিটানোর পূর্বে দুই সারির মাঝখানে লাংগল বা কোদাল দিয়ে মাটি আলগা করে দিতে হবে।
ফসল কাটা ও ফলনঃ প্রথম লাগানোর ৪০-৫০ দিন পরেই ঘাস কেটে খাওয়ানো যেতে পারে। রেখে ঘাস কাটতে হবে। বছরে ৮-১০ বার কাটা যায়। একর প্রতি ৬০,০০০-৬৫,০০০ কেজি কাঁচা ঘাস হতে পারে। পৌঁষ থেকে ফাল্গুন মাস পর্যন্ত শীতের সময় শুষ্ক আবহাওয়ার দরূন ঘাসের ফলন কমে যায়। তবে সেচের ব্যবস্থা থাকলে ভাল ফলন পাওয়া যেতে পারে।
খাওয়ানোর নিয়ম ও সংরক্ষণঃ জমি থেকে কেটে এনে টুকরা করে খাওয়ানোই উত্তম। তাছাড়া খড়ের সাথে মিশিয়েও খাওয়ানো যায়। শুকিয়ে রাখা সুবিধাজনক নয় তবে সাইলেজ করে সংরক্ষণ করা যায়।
পারা ঘাস চাষ পদ্ধতি
চাষ পদ্ধতিঃ পারা ঘাস উঁচু, নীচু, ঢালু, জলাবদ্ধ, স্যাঁতসেতে এমনকি লোনা মাটিতেও যেখানে অন্যকোন ফসল হয় না সেখানে পারা ভাল জন্মে। জমি চাষ পদ্ধতি নেপিয়ার ঘাসের মতই।
রোপণ প্রণালী ও সময়ঃ বর্ষার সময় সারি করে লাগাতে হয়। দুই সারির মধ্যবর্তী দূরত্ব ১.৫ ফুট। তবে এই ঘাসের সারি থেকে সারিতে কাটিংয়ের দূরত্ব তেমন গুরুত্বপূর্ণ নয়। এই ঘাসের কাটিং বা মুথা লাগানো যায়। সার প্রয়োগ ও পানি সেচঃ ঘাস লাগানোর ২-৩ সপ্তাহ পর একর প্রতি ৩৫কেজি ইউরিয়া দিতে হয়। পারা ঘাস পচা গোবর বা গো-শালা ধোয়া পচা পানিতে খুব ভাল হয়। রাসায়নিক সারের অভাবে ঘাস কাটার পর পচা গোবর জমিতে ছিটিয়ে দিলেও ভাল ফলন পাওয়া যায়। প্রতিবার ঘাস কাটার পর একর প্রতি ৩০-৩৫ কেজি ইউরিয়া দিলে ফলন বেশী হয়।
ঘাস কাটা ও ফলনঃ লাগানোর ৪০-৫০ দিন পরই ঘাস কেটে খাওয়ানো যায়। পরে অবস্থা অনুযায়ী ৪-৭ সপ্তাহ পর পর ঘাস কাটা যাবে। একর প্রতি বছরে উৎপাদন ৪০,০০০-৪৫,০০০ কেজি। রেখে কাটতে হয়।
খাওয়ানোর নিয়ম ও সংরক্ষণঃ এ ঘাস মাঠে গরু চড়িয়ে অথবা কেটে এনে খাওয়ানো যায়। তবে জমি থেকে কেটে এনে খাওয়ানোই ভাল। শুকিয়ে রাখা ভাল নয় তবে সাইলেজ করে রাখা যায়।
No comments
Please validate the capture