Header Ads

প্রজননের উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত ছাগীর যত্ন

ছাগীর যত্ন 

উদ্দেশ্যঃ প্রশিক্ষণার্থীদের প্রজননের উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত ছাগীর যতœ সম্পর্কে ধারণা প্রদান ।

অর্জনঃ এই পাঠ অধ্যয়ন শেষে শিক্ষার্থীগন প্রজননের উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত ছাগীর যতœ সম্পর্কে ধারণা                   পাবেন ।



উন্নতমানের ও অধিক উৎপাদনশীল বাচ্চা পেতে হলে ছাগলকে সুপরিকল্পিত ভাবে প্রজনন করাতে হবে । আর প্রজননের সুফল পেতে হলে প্রজননের উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত ছাগীর বিশেষ যতœ নিতে হবে । প্রজননের উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত ছাগীর জীবনে চারটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ লক্ষ্য করা যায় । ধাপগুলো হচ্ছেঃ ড্রাই পিরিয়ড, গর্ভকালীন সময়, প্রসবকালীন সময় এবং দুধ প্রদানকালীন সময় । উক্ত চারটি ধাপে ভিন্ন ভিন্নভাবে ছাগীর যতœ নিতেহবে। নিচে বিষয়টি নিয়ে আলোকপাত করা হলো ।

ড্রাই পিরিয়ড

বাচ্চা দুধ খাওয়া ছেড়ে দেওয়ার পর হতে পুনরায় প্রজনন করার পূর্ব পর্যন্ত (পরবর্তী গর্ভধারণকাল পর্যন্ত) সময়কে ছাগীর ড্রাই পিরিয়ড বলে। এ সময়ে দেহ রক্ষা, পর্যাপ্ত হরমোন নিঃসরণ এবং দেহের ক্ষয় পূরণের নিমিত্ত ছাগীকে পর্যাপ্ত পরিমান পুষ্টিকর সুষম খাদ্য সরবরাহ করতে হবে

গর্ভকালীন সময়

সুস্থ, সবল ও স্বাস্থ্যবান বাচ্চা উৎপাদনের লক্ষ্যে ছাগীকে গর্ভকালীন সময়ে উপযুক্ত পরিমান উন্নতমানের খাবার এবং উপযুক্ত যতœ নেওয়া জরুরী । এ সময়ে ছাগীকে স্বাভাবিক খাদ্যের পাশাপাশি ভিটামিন ও মিনারেল সরবরাহ করতে হবে । গর্ভস্থ ভ্রƒণের দেহের দুই তৃতীয়াংশ বৃদ্ধি ঘটে গর্ভধারণের শেষ সপ্তাহে । তাই এসময়ে আমিষের চাহিদা তিনগুন হয় । এসময়ে ভ্রƒণের বৃদ্ধি ও ছাগীর স্তনের বৃদ্ধির জন্য পর্যাপ্ত পরিমানে উন্নত মানের খাবার দিতে হবে । বাচ্চা প্রসবের দুই সপ্তাহ পূর্ব হতে ছাগীকে পৃথক রাখার ব্যবস্থা করতে হবে । এসময় মাচার উপর বা উঁচু স্থানে ছাগীকে উঠতে না দেওয়া ভাল । দিনে ঘর সংলগ্ন খোঁয়াড় অথবা উঠানে ছায়ার মধ্যে ছাগীকে রাখতে হবে । গর্ভবতী ছাগীকে শুকনা ও পরিস্কার পরিচ্ছন্ন স্থানে রাখতে হবে । রাতে মাটিতে শুকনো ও পরিস্কার খড় বা চট বিছিয়ে বিছানা তৈরী করে দিতে হবে ।

প্রসবকালীন সময়

প্রসবের পূর্বে ছাগীর ওলান এবং লেজের চারপাশের পশম পরিস্কার করতে হবে । এসময় দানাদার খাদ্য সরবরাহ কমিয়ে দিতে হবে বা বন্ধ করতে হবে । প্রসব ঘর অবশ্যই পরিস্কার পরিচ্ছন্ন, শুকনা এবং জীবানুমুক্ত রাখতে হবে । প্রসুতি ছাগী ও সদ্যজাত বাচ্চার জন্য মেঝেতে বিছানা/বেডিং এর ব্যবস্থা করতে হবে । প্রসবের ঘরে পর্যাপ্ত আলো বাতাসের ব্যবস্থা করতে হবে । অত্যন্ত শীতের মধ্যে সদ্যজাত বাচ্চাকে যেন উষ্ণ রাখা যায় সে সুযোগ থাকতে হবে ।

দুধ প্রদানকালীন সময়

প্রসবের পর ছাগীর প্রয়োজনের উপর লক্ষ্য রেখে খাদ্যের পরিমান প্রয়োজন অনুসারে বৃদ্ধি করা আবশ্যক । গাভীর দুধের চেয়ে ছাগীর দুধে প্রোটিন ও চর্বির শতকরা পরিমান বেশি থাকে বিধায় দুগ্ধবতী ছাগীকে পর্যাপ্ত পরিমান প্রোটিন ও ফ্যাট সমৃদ্ধ খাবার প্রদান করতে হবে । দুগ্ধবতী ছাগীর হাইপোক্যালসেমিয়া প্রতিরোধ করার জন্য খাদ্যে প্রয়োজনীয় পরিমানে ক্যালসিয়াম সরবরাহ করতে হবে । 

No comments

Please validate the capture

Powered by Blogger.