বিভিন্ন ধরণের ছাগল পালন পদ্ধতি
বিভিন্ন ধরণের ছাগল পালন পদ্ধতি
উদ্দেশ্য: প্রশিক্ষণার্থীদের বিভিন্ন ধরণের ছাগল পালন পদ্ধতি সম্পর্কে ধারণা প্রদান ।
অর্জন: এই পাঠ অধ্যয়ন শেষে শিক্ষার্থীগন বিভিন্ন ধরণের ছাগল পালন পদ্ধতি সম্পর্কে ধারণা পাবেন ।
উদ্দেশ্যঃ প্রশিক্ষণার্থীদের বিভিন্ন ধরণের ছাগল পালন পদ্ধতি সম্পর্কে ধারণা প্রদান ।
অর্জনঃ এই পাঠ অধ্যয়ন শেষে শিক্ষার্থীগন বিভিন্ন ধরণের ছাগল পালন পদ্ধতি সম্পর্কে ধারণা পাবেন ।
একটি ছাগল খামার স্থাপনের পূর্বে বিভিন্ন ধরণের ছাগল পালন পদ্ধতি সম্পর্কে সম্যক ধারণা লাভ করা প্রয়োজন । মূলতঃ কোন খামারে ছাগলে সংখ্যা, খামারের অর্থনৈতিক লক্ষ্য, খামার মালিকের পুঁজি, বিচরণ ভূমি ও খাদ্যের প্রাপ্যতা প্রভৃতি বিষয়ের উপর নির্ভর করে ছাগল পালন পদ্ধতি নির্ধারণ করা হয় । প্রসঙ্গতঃ উলে−খ্য যে, ১৫-২০ কেজি দৈহিক ওজনের একটি ছাগলকে দৈনিক গড়ে ১.৫-২.০ কেজি কাচা ঘাস সরবরাহ করা প্রয়োজন । ছাগল পালনের বিভিন্ন পদ্ধতির মধ্যে পারিবারিক ক্ষুদ্র খামার, মুক্তভাবে ছাগল পালন, সেমি ইন্টেনসিভ/আধা নিবিড় পদ্ধতিতে ছাগল পালন, ইন্টেনসিভ/নিবিড় পদ্ধতিতে ছাগল পালন, ইন্টেগ্রেটেড/সমন্বিত খামার প্রভৃতি উলে−খযোগ্য । নিম্নে ছাগল পালনের বিভিন্ন পদ্ধতি সম্পর্কে আলোচনা করা হলো ।
পারিবারিক ক্ষুদ্র খামার বৈশিষ্ট্য
1. খামারে ছাগলের সংখ্যা ২-৫ টি
2. ছাগলের জন্য আলাদা কোন বাসগৃহের প্রয়োজন হয় না । সাধারণতঃ গোয়াল ঘরে বা
খামারীর শোয়ার ঘরে বা বসতঘরের পাশের বারান্দায় ছাগলকে রাখা হয় ।
3. বসত ঘরের আশে পাশের পতিত জমি ও ক্ষেতের আইলের ঘাস হতে ছাগলের খাদ্যের
সংস্থান হয় ।
4. তবে সাপি−মেন্ট হিসাবে গমের ভূষি, চালের কুড়া, ছোলার ভূষি, ভাতের মাড়, কাঁঠাল পাতা
প্রভৃতি সরবরাহ করা হয়ে থাকে ।
সুবিধা
1. অল্প পুঁজি বিনিয়োগ করতে হয় বলে ভূমিহীন ক্ষুদ্র খামারী, প্রান্তিক চাষী এবং উচ্চ বিত্ত
কৃষক সকলেই এ ধরণের খামার করতে পারেন ।
2. এ ধরণের খামার স্থাপনে অল্প জায়গা এবং ব্যবস্থাপনায় অল্প শ্রম প্রয়োজন হয় ।
3. বিনিয়োগ অল্প বলে এ ধরণের খামারে ঝুঁকির পরিমানও কম ।
4. এক সাথে অল্প সংখ্যক ছাগল পালন করা হয় বলে এদের ব্যবস্থাপনা সহজসাধ্য । এদের
রোগ ব্যাধিও তুলনামূলকভাবে কম হয় এবং উৎপাদন ভাল হয় ।
5. সংখ্যা কম হওয়ায় বাজারজাতকরণও তুলনামূলকভাবে সহজ ।
অসুবিধা
1. অল্প সংখ্যক ছাগল পালনের কারণে বাৎসরিক আয় কম হয় । তাই একক পেশা হিসাবে
গ্রহণের জন্য এ ধরণের ছাগল পালন পদ্ধতি উপযুক্ত নয় ।
2. বাণিজ্যিক ভিত্তিতে পালন করা হয় না বলে অনেক সময় ছাগলের খাদ্য ও স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা
খাতে কম অর্থ বিনিয়োগ করা হয় । ফলে উৎপাদন অনেক সময় আশানুরূপ হয় না ।
3. আয়
1. এ ধরণের খামার হতে বছরে ১২-১৫ হাজার টাকা আয় করা সম্ভব ।
2. মুক্তভাবে ছাগল পালন
বৈশিষ্ট্য
1. খামারে ছাগলের সংখ্যা ৮-১০ টি
2. বসত ঘরের আশে পাশের অনাবাদি জমি, পতিত জমি যেমনঃ রেল লাইনের ধার, বাঁধ,
পুকুর পাড়, খেলার মাঠ, পাহাড়ী ভূমি, নদীর চর প্রভৃতি জায়গায় মুক্তভাবে সারাদিন ছাগল
চরানো হয় ।
3. শুধু রাতের বেলায় ছাগলকে বাড়ীতে নেওয়া হয় । এসময় শুধুমাত্র দানাদার খাবার ছাগলকে
সরবরাহ করা হয় ।
সুবিধা
1. পতিত/অনাবাদি জমিতে মুক্তভাবে চরে বেড়ায় বলে ছাগলের জন্য আলাদাভাবে ঘাস
উৎপাদনের প্রয়োজন হয় না ।
2. খাদ্য ব্যবস্থাপনা খাতে খরচ কম হয় ।
3. মুক্তভাবে চরে বেড়ায় বলে রোগ-বালাই তুলনামূলকভাবে কম হয় ।
অসুবিধা
1. মুক্তভাবে চরে বেড়ায় বলে রক্ষণাবেক্ষণ ও দেখাশোনার কাজে নজরদারি করতে হয় ।
নতুবা ছাগল হারিয়ে যাওয়ার বা চুরি হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে ।
2. মুক্তভাবে চরে বেড়ানোর কারণে অনেক সময় ছাগল কর্তৃক অন্যের ক্ষেতের ফসল নষ্ট করার
সভাবনা থাকে । এর ফলে প্রতিবেশীর সাথে ঝগড়া-বিবাদ হতে পারে ।
3. দেশব্যাপী নিবিড় কৃষি কাজের কারণে বর্তমান প্রেক্ষাপটে দেশের অধিকাংশ স্থানে এ
পদ্ধতিতে ছাগল পালন করা দুরুহ ।
4. মুক্তভাবে চরে বেড়ায় বলে ছাগলের পরিকল্পিত প্রজনন সম্ভব নাও হতে পারে ।
আয়
1. এ ধরণের খামার হতে বছরে ২৫-৩৫ হাজার টাকা আয় করা সম্ভব ।
No comments
Please validate the capture