Header Ads

গবাদি পশুর খাদ্য ভূট্টা খড়ের সংরক্ষন ও ব্যবহার

 ভূট্টা খড়ের সংরক্ষন

বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চল ও ঢাকা বিভাগে প্রচুর ভুট্টা চাষ হয়। শুধুমাত্র রাজশাহী ও ঢাকা বিভাগে ২২,১১০ হেক্টর জমিতে ভূট্টা চাষ করা হয়। এক চতুর্থাংশ জায়গার ভূট্টার খড়ও যদি সাইলেজ করা হয় তা হলে মোট ৮,৮৪,৪০০ টন সাইলেজ উৎপাদন করা সম্ভব। এই বিপুল পরিমাণ উচ্ছিষ্ট সম্পদ হিসাবে ব্যবহার করে প্রাণি খাদ্যের অভাব দূরীকরণসহ প্রাণিজাত উৎপাদিত দ্রব্যের উৎপাদন খরচ বহুলাংশে কমানো যায়। 


সুবিধাঃ

১।  অধিক উৎপাদনশীল। ভুট্টা দানা ও খড় একই সংগে আহরণ করা যায়। তাছাড়া হাইব্রিড ভুট্টার খড় ভুট্টাদানা সংগ্রহের পরও সবুজ ও সতেজ থাকে ফলে খড়ের পুষ্টিমানও ভাল থাকে।

২। ভুট্টা রবি (নভেম্বর-ফেব্র“য়ারী) ও খরিপ ( মার্চ-অক্টোবর) উভয় মৌসুমেই জন্মে। তাই ভুট্টার খড় হতে বছরে দুই বার সাইলেজ করা যায় এবং সারা বছর প্রাণিখাদ্য হিসেবে ব্যবহার করা যায়।

৩। কোন রকম দ্রব্যাদি যোগ করা ছাড়াই ভুট্টা খড়ের সাইলেজ তৈরী করা যায় তবে মোলাসেস অথবা ইউরিয়া যোগ করে সাইলেজ তৈরী করলে সাইলেজের পুষ্টিমানও বাড়ে এবং অধিককাল সংরক্ষণ করা যায়।

৪। হাইব্রিড ভুট্টা হতে রবি ও খরিপ মৌসুমে প্রতি হেক্টরে দানা উৎপন্ন হয় যথক্রমে ৬-১০ টন ও ৪-৫ টন। তাছাড়া প্রতি ঋতুতে প্রতি হেক্টরে ভুট্টার খড় উৎপন্ন্ হয় ২৫-৫০ টন। এই খড় সাধরনত জ্বালানী হিসাবে ব্যবহৃত হয়। কিন্তু এটি ব্যবহার করে উৎকৃষ্ট প্রাণিখাদ্য তৈরী করা যায়।

৫।  দেশের মোট ভুট্টা উৎপাদন এলাকার যথাক্রমে ৫৪ শতাংশ (১৫ লক্ষ হেক্টর)এবং ২৫ শতাংশ (৭ লক্ষ হেক্টর) এলাকা রাজশাহী ও ঢাকা বিভাগের অন্তর্ভূক্ত। তাই এ সমস্ত এলাকায় সমন্বিত খামার ব্যব স্থাপনার মাধ্যমে ভুট্টা দানা ও খড় ব্যবহার করে ডেইরী, বীফ, লেয়ার, ব্রয়লার ও ছাগল উৎপাদন সম্ভব। 

ব্যবহার পদ্ধতিঃ

১। খামারীগণ হাইব্রিড বা প্রচলিত যে কোন ভুট্টা যেমন বর্ণালী, মোহর,শুভ্র, প্যাসিফিক১১, প্যাসিফিক ৬০, প্যাসিফিক ৩৯৩, বারী-৫ ইত্যাদি রবি অথবা খরিপ যে কোন মৌসুমে লাগাতে পারেন।

২। ভুট্টা গাছ হতে পরিপক্ক ভুট্টার মোচা উঠানোর পর সাইলেজ করার জন্য ভুট্টা গাছ কর্তন করা হয়। ক্স ভুট্টা গাছ কর্তনের পর ভালভাবে সাইলেজ করার জন্য ভুট্টা গাছকে ট্রাক্টর চালিত চপার মেশিনে বা দা দিয়ে ৭-১০ সেঃমিঃ সাইজে টুকরো করা হয়।

৩।  টুকরাকৃত এ গাছকে সাইলো পিটে সংরক্ষণ করা হয়।

৪।  একটি সাইলো পিটের আকৃতি হতে পারে এরূপ যেমন- ৩ ফুট গভীর তলদেশে ৩ ফুট প্রশস্ত,মধ্যভাগে ৮ ফুট প্রশস্ত,এবং উপরিভাগে ১০ ফুট প্রশস্ত। এভাবে তৈরীকৃত ১০০ বর্গফুটের একটি সাইলো পিটে ২.৫-৩.০ টন ঘাস সাইলেজ হিসাবে সংরক্ষণ করা যায়। 

ব্যবহারের সম্ভাবনাঃ রবি ও খরিপ মৌসুমে দেশের উত্তরাঞ্চল ও ঢাকা বিভাগের এলাকা সমূহে ভুট্টা খড় সংরক্ষণ করে স্বল্প খরচে দুগ্ধ ও গরু মোটাতাজা করন খামার প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব। 

পদ্ধতি ব্যবহারের সর্তকতাঃ সাইলো পিট উঁচু জায়গায় করতে হবে যাতে বৃষ্টির পানি জমা হতে না পারে এবং পানি গড়িয়ে চলে যেতে পারে। তাছাড়া পিটের ভিতর সাইলেজ যেন আটশাট অবস্থায় থাকে এবং বাতাস ও পানি প্রবেশ করতে না পারে সেদিকে বিশেষ লক্ষ রাখতে হবে। 


No comments

Please validate the capture

Powered by Blogger.